বিপিসিতে তোলপাড়:বয়স জালিয়াতি মামলায় আত্মগোপনে জিএম মোরশেদ, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সব সম্পত্তি
বিপিসিতে তোলপাড়:বয়স জালিয়াতি মামলায় আত্মগোপনে জিএম মোরশেদ, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সব সম্পত্তি!
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের নানাবিধ দুর্নীতি, তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির ঘটনায় পেট্রোলিয়াম সেক্টরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি উচ্চপর্যায়ের তদন্তে তাঁর বয়স ও অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতির বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর এবার সামনে এসেছে পদে থাকাকালীন তেল আমদানির এলসি (Letter of Credit) মূল্য পরিশোধে শত কোটি টাকার ডলার কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অপরাধ চক্রের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি ক্রোকের আইনি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের আভাস পেয়ে অভিযুক্ত এই শীর্ষ কর্মকর্তা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতি ও প্রতারণার ফৌজদারি মামলা অভিযুক্ত মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা (মামলা নম্বর: ১৮২৪/২০২৬) দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সমন জারি করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,আদালতের সমন অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হলে কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়া মাত্রই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভুয়া সনদ ও বয়স চুরির দালিলিক প্রমাণ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।
২০০৯ সালে বিপিসিতে নিয়োগের সময় সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত বয়স গোপন করে আবেদন করেন তিনি।ভুয়া প্রত চাকরিতে প্রবেশের শর্ত পূরণের জন্য ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামক একটি সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করেন, যা তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
শুধু সনদ জালিয়াতিই নয়, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে থাকাকালে তেল আমদানির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার ডলার নয়ছয় ও কেলেঙ্কারির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখন দুদকের হাতে।
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পর্শকাতর এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে দুদক একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, অকাট্য দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মোরশেদ আজাদের: সকল ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করা,দেশে-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর অবৈধ সম্পদ ক্রোক (Attach) করা, এবং দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিপিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এমন চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত না করায় সাধারণ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিপিসির শ্রমিক ইউনিয়ন মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে ‘অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে। একই সাথে তাঁকে অনতিবিলম্বে চাকরি থেকে চূড়ান্ত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।