চট্টগ্রামে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু: সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যু ছাড়িয়েছে আগের সব রেকর্ড!!
চট্টগ্রামে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু: সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যু ছাড়িয়েছে আগের সব রেকর্ড!
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ এমনভাবে বেড়েছে যে, তা বিগত মাসগুলোর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) চট্টগ্রামে যতো রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম তিন সপ্তাহে তার চেয়েও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন।। এর মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৮৮৬ জন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৩ জন।
চলতি বছরের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ হার। মোট আক্রান্তের প্রায় ২২ শতাংশই শিশু (৮৭২ জন)। এছাড়া মৃত ১৮ জনের মধ্যে ৫ জনই শিশু। সীতাকুণ্ড, হালিশহর, পাহাড়তলী, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার। পাশাপাশি ডেঙ্গুর ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
শুধু চট্টগ্রাম মহানগরী নয়, এবার ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড উপজেলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কর্ণফুলী, রাঙ্গুনীয়া, বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়ও রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (হটস্পট) হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও থামানো যাচ্ছে না সংক্রমণ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নির্ধারিত বিছানার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককে ওয়ার্ডের মেঝেতে বা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসায় এবং জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশকনিধনে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’, ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুর এই লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ কিংবা আঙিনায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি তিন দিনের মধ্যে পরিষ্কার করা এবং নিজেদের সুরক্ষায় মশারি ব্যবহারের ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রক্ত পরীক্ষা করান। সচেতনতাই পারে ডেঙ্গুর এই ভয়াল থাবা থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।