, , চট্টগ্রাম

অনন্য চট্টগ্রাম

দালালমুক্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব নিলেন নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা

দালালমুক্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব নিলেন নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা

​নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি, অনিয়ম আর দালালচক্রের দীর্ঘমেয়াদী দৌরাত্ম্য থেকে চট্টগ্রাম বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) অফিসকে মুক্ত করার কঠিন চ্যালেঞ্জ কাঁধে নিয়ে নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শফিকুজ্জামান ভূঞা। দীর্ঘদিন ধরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং পদে পদে দালালের হয়রানির শিকার হওয়ার যে চিত্র চলে আসছে, তা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে উদ্ধার করা তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় এবং অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
​দায়িত্ব গ্রহণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে যোগদানের পর থেকেই নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞার সামনে পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা, ভেহিকেল রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়নে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং অফিসের ভেতরের ও বাইরের কিছু অসাধু চক্রের সিন্ডিকেট ভাঙা এখন সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকদের একটাই চাওয়া—যাবতীয় সেবা যেন কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল ছাড়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে পাওয়া যায়।
​প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
দালালচক্রের সিন্ডিকেট নির্মূল: অফিসের আশপাশে সক্রিয় সক্রিয় দালাল ও তাদের নেপথ্যের সহযোগীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।
সেবার গতিশীলতা বৃদ্ধি: ফাইল প্রসেসিংয়ের সময় কমিয়ে আনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ও কাগজপত্র প্রদান নিশ্চিত করা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: প্রতিটি সেবাগ্রহীতা যেন কোনো প্রকার ঘুষ বা অতিরিক্ত ফি ছাড়া সরকারি নির্ধারিত খরচে সেবা পায় তা মনিটরিং করা।
সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি রোধ: কাউন্টারগুলোতে ভিড় কমানো, সঠিক তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং দালালদের প্রবেশাধিকার কঠোরহস্তে দমন করা।
​জনগণের দীর্ঘ প্রত্যাশা
প্রতিবছর চট্টগ্রাম বিআরটিএ থেকে লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু অতীতে প্রায় সময়ই সেবাগ্রহীতারা নানা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞার নিকট চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, তিনি পূর্বের সব অনিয়মের ধারা পাল্টে দিয়ে বিআরটিএ অফিসকে একটি জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করবেন।এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে তিনি এই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।