, , চট্টগ্রাম

অনন্য চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হানি ট্র্যাপ’: প্রেমের ছলে ‘মানি ট্র্যাপিং’ ও ভুয়া মামলার নতুন ফাঁদ

চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হানি ট্র্যাপ’: প্রেমের ছলে ‘মানি ট্র্যাপিং’ ও ভুয়া মামলার নতুন ফাঁদ!
​
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা পরিচিত বন্ধুর সূত্র ধরে প্রথমে কুশল বিনিময়। তারপর তৈরি করা হয় ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে তৈরি করা হয় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপন ছবি ও ভিডিও। আর এর পরপরই শুরু হয় আসল খেলা—মামলা দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং পরে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি!
​প্রতারণার এমন ভয়ংকর ও ভয়াল কৌশল ‘হানি ট্র্যাপ’ এখন চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি কর্মচারি ও উড়তি বয়সের যুবকদের কাছে এক আতঙ্ক ও মহাআতঙ্কের নাম।
চট্টগ্রামে একের পর এক পুরুষকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় এবং ভুয়া মামলা দিয়ে সামাজিক মানহানি  ও মানসিকভাবে হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে,
একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাতানো এই আড়ালে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারি মোহাম্মদ খালেদ ও মাহফুজ । মাহফুজ ও খালেদ এই প্রতিবেদককে অভিযোগ করে  বলেন,আমাদের সাথে এক মহিলার মাধ্যমে টেলিফোনেএই চক্রের মূল হোতা বেবি আক্তার এর পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পর থেকে বেবি আক্তার এর সাথে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সুবাদে প্রায় সময় তার সাথে কথা হতো। একদিন তাকে দেখা করার কথা বললে বেবি আক্তার দেখা করতে চট্টগ্রাম শহরে আসেন। বেবি আক্তার এর সম্মতিতে আমরা তাকে চট্টগ্রাম শহরে হোটেল হেরিটেজ এ আমাদের সাথে গিয়ে সময় কাঠানোর কথা বললে সে রাজি হয় এবং ঐদিন টাকার বিনিময়ে সময় কাটিয়ে চলে যায়। এভাবে বেবি আক্তার প্রায় সময় আমাদের কাছে আসতো এবং টাকার বিনিময়ে সময় কাটিয়ে চলে যেতো। পরে জানতে পারলাম এই বেবি আক্তার একজন পেশাদার যৌন কর্মি ও প্রতারক চক্রের সদস্য।  সরকারি কর্মচারি খালেদ জানান এই বেবি আক্তার
২০২৫ সালে রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মো: কাশেম এর ছেলে প্রবাসী মো: সুমন এর সাথে প্রেমের ফাঁদ পেতে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে তার কাছে থেকে অর্থ ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস পত্র হাতিয়ে নিয়ে প্রবাসী সুমন এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ০১/০৭/২০২৫ ইংরেজিতে মামলা নং ৭৯ /২০২৫ দায়ের করেন। সরকারি কর্মচারি খালেদ আরও বলেন,পরে বেবি আক্তার ও তার পরিবার সুমন এর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিবে বলে সমঝোতার কথা বলে প্রবাসী সুমন এর কাছ থেকে প্রায় ৭ লক্ষ হাতিয়ে নেওয়ার পরেও তারা মামলা আর প্রত্যাহার করেনি এইচক্রটি। খালেদ আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ছোট খাটো চাকরি করি চট্টগ্রাম শহরে কিন্তু বেবি আক্তার ও তার চক্রটি এখন আমাদেরকে অহেতুক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। খালেদ ও মাহফুজ  বলেন আসলে বেবি আক্তার একজন পেশাদার যৌন কর্মি। খালেদ আরও বলেন  আমাদের মতো সহজ সরল সরকারি কর্মচারিদের টার্গেট করে এই বেবি আক্তার ও তার সহযোগী চক্রটি হ্যানি ট্র্যাপে ফেলে মামলা দিয়ে সম্মানহানি, হয়রানি ও অর্থ আদায় তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমি এই বেবি এই চক্রটির বিরদ্ধে ভবিষ্যতের জন্য থানায় জিডিও করে রেখেছি। খালেদ এর দাবি বেবি আক্তারের নিজ বোন, ভগ্নিপতি দেলোয়ার হোসেন এবং এক অসাধু পুলিশ সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদ ও ছত্রছায়ায় অপরাধ জগতে নামে সে। তাদের মূল কৌশল হলো প্রথমে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগীদের সাথে সুসম্পর্ক ও প্রেমের ছলনা করা, এরপর টাকা ও ঘনিষ্ঠতার বিনিময় ঘটানো। পরবর্তীতে সুপরিকল্পিতভাবে সেই ঘনিষ্ঠতাকে অস্ত্র বানিয়ে শুরু হয় মোটা অঙ্কের টাকা দাবির নতুন খেলা—যাকে বলা হচ্ছে ‘মানি ট্র্যাপিং ও ভুয়া মামলার নতুন ফাঁদ।

​খালেদ অভিযোগ করে বলেন, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে বোন ও ভগ্নিপতির সহায়তায় একের পর এক ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মচারিদের টার্গেট বানাতে থাকে বিবি আক্তার । অসাধু উদ্দেশ্যে অন্তরঙ্গতা তৈরি করে প্রথমে অর্থ সুবিধা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে লোভের মাত্রা বেড়ে গেলে সমঝোতার কথা বলে অথবা ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে পুরো চক্রটির বিরুদ্ধে।
​আগেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সরকারি কর্মচারিকে একইভাবে প্রেমের জালে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তার বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বেবি আক্তারের বিরুদ্ধে।
বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও একের পর এক পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি এবং তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার বিষয়ে মামলার কপিতে থাকা অভিযুক্ত বেবি আক্তার এর মোবাইলে বার বার কল করা হলেও সেই মোবাইলে সংযোগস্হাপন পরা সম্ভব হয়নি।
​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ধারণ বা পরবর্তীতে তা দিয়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা সুস্পষ্ট ‘ডিজিটাল অপরাধ’ ও ‘হানি ট্র্যাপিং ব্ল্যাকমেইলিং’। তবে ভুক্তভোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা ও মান-সম্মানের ভয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চান না। ভুক্তভোগীদের এই নীরবতাকে পুঁজি করেই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
​বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও ভুক্তভোগীদের দাবি
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা পরিচিতদের মাধ্যমে হুট করে অচেনা কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। প্রতারণার এই ভয়ংকর নেটওয়ার্ক ও চক্রটির সাথে জড়িত বেবি আক্তারসহ তার অন্য সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।