, , চট্টগ্রাম

অনন্য চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিআরটিএ সার্কেল-২: ওথোয়াইনো-রায়হান জুটির ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের রাজত্ব

চট্টগ্রাম বিআরটিএ সার্কেল-২: ওথোয়াইনো-রায়হান জুটির ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ও সেবাখাতের দুর্নীতি যেন কিছুতেই থামছে না। এর একটি উজ্জ্বল ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে চট্টগ্রাম বিআরটিএ সার্কেল-২ (নতুন পাড়া অফিস) ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন শাখাকে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেট। চট্টগ্রাম বিআরটিএ-র  সার্কেল – ২ এর কর্মকর্তা সহকারি পরিচালক ইন্জিনিয়ারিং ওথোয়াইনো চৌধুরী  ও পরিদর্শক  রায়হান জুটির বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। নামমাত্র সরকারি ফি দিয়ে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, এখানে প্রতিটি পদক্ষেপে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
​ফাইল প্রতি ঘুষ: রেজিস্ট্রেশন শাখায় স্থবিরতা
​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অফিসে ঘুষের লেনদেন ছাড়া কোনো দাপ্তরিক ফাইলই এক ইঞ্চিও সামনে এগোয় না। গাড়ি বা মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস বা যেকোনো সাধারণ কাজের জন্য গ্রাহকদের বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। প্রতিদিন শত শত ফাইল থেকে হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার পর তবেই ফাইল ছাড় দেয় এই সিন্ডিকেট। দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও টাকা ছাড়া সেবা না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন সাধারণ গাড়িচালক ও মালিকরা।
​দালাল সিন্ডিকেটের শক্ত নেটওয়ার্ক ও রবিউল হোসেন এর স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, রায়হানের নিজস্ব এলাকা হাটহাজারির লোকাল পরিচয় এবং দাপ্তরিক কোণকে কাজে লাগিয়ে এই জুটি গড়ে তুলেছে এক সুসংগঠিত দালাল সিন্ডিকেট, যা বর্তমানে পুরো বিআরটিএ অফিসের রেজিস্ট্রেশন শাখা নিয়ন্ত্রণ করছে।
​বিআরটিএর একসময়ের ফিটনেস শাখার দালাল এবং বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান দালাল হিসেবে পরিচিত রবিউল হোসেন এর কাছে দালালি বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এক চাঞ্চল্যকর ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি দেন। রবিউল বলেন, “আমাদের ধরে লাভ কী? ওথোয়াইনো ও রায়হান স্যার কোটি কোটি টাকার মালিক, আসল অপরাধী তো তারা, তাদেরকে ধরুন। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে কাজ এনে তাদের নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদের কাছে ফাইল ও ঘুষের টাকা পৌঁছে দিই। টাকা না দিলে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা কাজ হয় না। এখানে প্রতিটি শাখায় বাইরের কিছু লোক সক্রিয় রয়েছে, যাদের হাতে অতিরিক্ত টাকা গুঁজে দিলে সব অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়। সরকারি কোনো কর্মকর্তা সরাসরি নিজের হাতে টাকা নেন না; বরং তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই চলে অবৈধ টাকা ও উপরে -নিচে রমরমা ভাগ-বণ্টন।”
​রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার:
​বিআরটিএ-র একজন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে এই জুটি নিজেদের ও বিভিন্ন নিকটাত্মীয়ের নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। সাধারণ একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সাথে যার কোনো মিলই থাকতে পারে না। রায়হানের চাকুরী ঘিরে
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পলাতক নেতা নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরীর সুপারিশ ও হাত ধরে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘুষ দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন রায়হান—এমন তথ্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেশুধু তাই নয়, রায়হান নিজেকে কুখ্যাত যুবলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী তৌফিকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপর লাগাতার প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়েই তিনি অফিসে ঘুষের একচ্ছত্র রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।
​প্রতিকারের দাবি সাধারণ সচেতন মহলের :
​দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিআরটিএ-র উচ্চপর্যায়ের নজরদারি সত্ত্বেও এই চক্রের এমন বেপরোয়া কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করছে গোটা সেবা খাতকে। সচেতন সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ওথোয়াইনো ও রায়হানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং দুদক এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আগামী পর্বে চোখ রাখুন:
ঘুষ ও দুর্নীতির টাকায় ওথোয়াইনো ও রায়হান কোথায় কোথায় গড়ে তুলেছেন অঢেল অবৈধ সম্পদ? কোন কোন আত্মীয়ের নামে রয়েছে ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট? এসবের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও আদ্যোপান্ত নিয়ে থাকছে আমাদের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।