বাবুল-সানি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড
২০ লাখ টাকায় বাদুড়তলার ১০ কাঠা জমি নিলাম: প্রশ্নের মুখে ভূমিদস্যু বাবুল-সানি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাদুড়তলা এলাকার প্রায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রির ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। জমিটির প্রকৃত মালিকানা, ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধ এবং নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ—পুরো ঘটনাটি একটি প্রভাবশালী বাবুল-সানি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।
অভিযোগ রয়েছে, অগ্রণী ব্যাংকের একটি বকেয়া ঋণের সূত্র ধরে জমিটি নিলামে তোলা হলেও যে টাকার কারণে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা ২০১২ সালেই ঋণগ্রহীতার গ্যারান্টার আব্দুল মাবুদ নিজে পরিশোধ করেছিলেন। এরপরও কীভাবে একই সম্পত্তি নিলামে গেল—সেই প্রশ্নের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, জমিটির মালিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পরিবারের কেউই নিলাম বা দখল হস্তান্তর সংক্রান্ত কোনো নোটিশ পাননি। হঠাৎ করেই আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের। বাদুড়তলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলাম হওয়ার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
নিলামের বাইরে থাকা জমি দখলের অভিযোগ : ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের মাধ্যমে নিলামে ক্রয় করা জমির দখল বুঝে পাওয়ার পরও অভিযুক্ত আওয়ামী দোসর বাবুল-সানি পক্ষ শতাধিক লোক নিয়ে এলাকায় গিয়ে অতিরিক্ত জমি দখলের চেষ্টা করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪০২ দাগের যে জায়গাটি নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেটিও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান থাকার কথাও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, আইনি জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই শক্তি প্রদর্শন করে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
একটি প্রবাসী পরিবারকে হেনস্তা করার পাশাপাশি পরিবারের এক শিশু সদস্যের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম চৌধুরী বাবুলকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, তদন্তের দাবি : স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা না হলে ভবিষ্যতে এলাকার আরও মানুষ জমি নিয়ে হয়রানি ও দখলবাজির শিকার হতে পারেন।
তাদের প্রশ্ন—ব্যাংকের দাবি করা ঋণ যদি আগেই পরিশোধ হয়ে থাকে, তাহলে নিলাম প্রক্রিয়া কীভাবে চলল? প্রকৃত মালিকদের যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না? নিলামে বিক্রি হওয়া জমির বাইরে অন্য দাগের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?
বাদুড়তলা ও আশপাশের এলাকাবাসী এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নিলাম প্রক্রিয়া, ব্যাংকের নথি, আদালতের আদেশ এবং জমির দাগভিত্তিক মালিকানা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভূমি দখল ও নিলামকে কেন্দ্র করে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ কোনো পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের।