মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি করেন কবির!
যৌন নির্যাতন থেকে সবেই হয় যেখানে* ৬৯ নারী স্বাস্থ্য কর্মীর লিখিত অভিযোগ* মানববন্ধনের পরও ব্যবস্থা নেননি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন!
জেলার মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউণ্ডে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যেই যৌনতায় মেতে উঠেন ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমটি-ইপিএল কবির হোসেন নামের এক কর্মচারী। আর এই ঘটনা দেখে দূর থেকে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয় এক সিএনজি অটোরিকসা চালক। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আতংকিত হয়ে পড়েছেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত নারী স্বাস্থ্য কর্মী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু এক-বা দু’বার নয়। কবির হোসেন ২০১৭ সাল থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে মেতে আছে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ যে দূরের কথা মুখখুলতে সাহস পাচ্ছেন না কেউই। এমনকি তার প্রথম টার্গেট এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত নারী স্বাস্থ্য কর্মী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা।
ভুক্তভোগী একাধিক নারী স্বাস্থ্য কর্মী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, প্রথমে টার্গেগকৃত নারী কর্মীদের বেডে নিতে প্রস্তাব দেন কবির। তবে তার প্রস্তাবে সাড়া না দিলেই বিভিন্ন অযুহাতে এসব নারী স্বাস্থ্য কর্মী বা স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের ওপর নেমে আসে মানসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতন। এসব নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী নারী স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিযোগ, সম্প্রতি এই বিষয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত নারী স্বাস্থ্য কর্মী উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে বিভাগীয় পরিচালক মহোদয় সিভিল সার্জন মহোদয়কে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। আমরা সেখান থেকে সিভিল সার্জন মহোদয়ের কার্যালয়ে গেলে সিভিল সার্জন আমাদের বিএনপির মতাদর্শী চিকিৎসকদের রাজনৈতি সংগঠন ড্যাবের নেতাদের নিকট পাঠান। আমরা ড্যাবের চট্টগ্রামের নেতাদের কাছে গেছি। কিন্তু কোথাও এর প্রতিকার মিলেনি।
তবে—রহস্যজনক কারণে এই অভিযোগও ধামাপাচা পড়েযায়। তারা আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দপ্তরের সমস্যা। সিভিল সার্জন সমাধানের জন্য পাঠাচ্ছেন রাজনৈতি নেতাদের কাছে।
এরআগে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি-ইপিআই কবির হোসেনের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত নারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পোর্টাররা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (মস্তাননগর নগর হাসপাতাল) প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন, মীরসরাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমা আক্তার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাছিমা আক্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, কবির হোসেন দুর্নীতির অভিযোগে দুদক কর্তৃক বদলিকৃত, পোর্টারদের অর্থ আত্মসাৎকারী এবং নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণে জড়িত। এছাড়া, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলারও আসামি বলে দাবি করেন তারা। অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান বক্তারা।
এক ভুক্তভোগী জানান, সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ করেছি। তবে এর কিছুই কর্ণপাত করেননি সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বার বার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে—নারী স্বাস্থ্য কর্মীদের যৌন হয়রানি ও হাসপাতালের ভেতরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সিভিল সার্জন বলেন, অভিযোগগুলো আমি পেয়েছি। এছাড়া বিভাগীয় পরিচালক মহোদয়ও এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দায়েরের জন্য বলেছেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জকে প্রধান করে এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু এখন হামরুবেলা ক্যাম্পেইন চলছে। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে হামরুবেলা টিকা কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য। তাই সবাই হামরুবেলা নিয়ে ব্যস্ত আছে। তদন্ত কমিটি এই ক্যাম্পেইনের পরই মাঠে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দায়ের করবেন আশা করছি।
সিটিজি মনিটর/এমএফ