হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা!
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংশোধন, মিটার পরিবর্তন ও নতুন লাইনের কাজে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। এসব অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা ও কৃষি কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগের পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অথচ এই বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যত উদাসীন ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অটোরিকশার চার্জিং গ্যারেজে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গ্যারেজে উচ্চ ক্ষমতার লাইন ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলেও নিয়মিত কোনো অভিযান বা কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে হাটহাজারীতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
এদিকে নতুন মিটার সংযোগ দিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। টাকা না দিলে মিটার সংযোগে অযথা বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, মিটার রিডারদের মনগড়া রিডিংয়ের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত রিডিং না দেখেই অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলেন, একদিকে আমরা নিয়মিত বিল দিয়েও লোডশেডিংয়ে ভুগছি, অন্যদিকে অবৈধ গ্যারেজে দিব্যি বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সব জানে, কিন্তু ব্যবস্থা নেয় না।
জানা যায়, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না করে মাসের পর মাস গ্রাহকদের ঘোরানো হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডিং না দেখেই অতিরিক্ত বিল তৈরি করা হয়। ভুল বিল সংশোধনের জন্য গ্রাহকদের একাধিকবার অফিসে আসতে বাধ্য করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান দেওয়া হয় না। বরং দালালচক্রের মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ করলে দ্রুত কাজ হয়—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ তিনগুণ এসেছে। অফিসে গেলে বলে ঠিক করে দেবে, কিন্তু ইঙ্গিত দেয় খরচ লাগবে। টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না।
আরেক গ্রাহক জানান, নিয়মিত লোডশেডিং ও লাইনের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ জানাতে গেলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। জরুরি পরিস্থিতিতেও ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ রয়েছে। তারা মনে করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরে একটি শক্তিশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা তার মোবাইল সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
সচেতন মহলের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অভ্যন্তরীণ অনিয়ম বন্ধ না হলে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তিও বাড়বে। দ্রুত অভিযান, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সিটিজিমনিটর/এসইউ