, , চট্টগ্রাম

অনন্য চট্টগ্রাম

নিজ এলাকা হাটহাজারিতে বদলি হয়ে আ.লীগ দোসর তৌফিকের ছায়ায় বেপরোয়া বিআরটিএপরিদর্শক রায়হান:নেপথ্যে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক দুদকের অনুসন্ধান দাবি!

নিজ এলাকা হাটহাজারিতে বদলি হয়ে আ.লীগ দোসর তৌফিকের ছায়ায় বেপরোয়া বিআরটিএপরিদর্শক রায়হান:নেপথ্যে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক দুদকের অনুসন্ধান দাবি!
​বিশেষ প্রতিনিধি : স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও বিভিন্ন দপ্তরে ঘোপটি মেরে থাকা রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট দুর্নীতিবাজরা বহাল তবিয়তে থেকে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখার মোটরযান পরিদর্শক রায়হানের বিরুদ্ধে নিজ এলাকা হাটহাজারীতে ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার, রাজনৈতিক শেল্টার ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের অন্যতম হোতা ও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ‘তৌফিক’-এর প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই দুর্নীতির সাম্রাজ্য নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
​নিজ এলাকায় বদলি ও তৌফিক সিন্ডিকেটের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্য: অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম ও বদলির প্রচলিত প্রথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোটরযান পরিদর্শক রায়হান নিজের প্রভাব খাটিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে তার নিজের এলাকা চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বিআরটিএ-র রেজিস্ট্রেশন শাখায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয়দানকারী ‘তৌফিক’-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর তৌফিকের নাম ভাঙিয়ে এবং তার সরাসরি আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে পরিদর্শক রায়হান বিআরটিএ অফিসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিজের এলাকায় পোস্টিং নেওয়ার সুবাদে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন, যার ফলে তার বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস পেতেন না সাধারণ কর্মচারীরাও।
নিরাপদ জোন ও দালালের রাজত্ব: রেজিস্ট্রেশন শাখাকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস বানাতে তিনি একদল চিহ্নিত দালালকে মাঠে নামিয়েছেন। তৌফিক ও রায়হান জুটির যৌথ ইন্ধনে এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন শত শত সেবাগ্রহীতার পকেট কাটছে।
​রেজিস্ট্রেশন শাখায় ফাইল জট ও ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: বিআরটিএ চট্টগ্রাম অফিসের রেজিস্ট্রেশন শাখাটি বর্তমানে অনিয়মের অন্যতম হটস্পটে পরিণত হয়েছে। নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা বদলি, হর্স পাওয়ার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ধরনের অনুমোদন কার্যক্রমে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয় না।
ঘুষ ছাড়া মেলে না ছাড়পত্র: বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষ কাউন্টারে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। এরপর তৌফিকের সিন্ডিকেট ও দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে নির্ধারিত ঘুষের বিনিময়ে নিমেষেই সেই ফাইল ছাড়পত্র পেয়ে যায়।
রাজস্ব ফাঁকি ও ভুয়া কাগজপত্রের রমরমা কারবার: অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাস্টমস ফাঁকি দেওয়া গাড়ি, ত্রুটিপূর্ণ ও নিলামের কাগজপত্রে গরমিল থাকা মোটরযানকে বৈধ সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে পরিদর্শক রায়হানের বিরুদ্ধে। এর ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।
​অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও বিলাসবহুল জীবনযাপন
​অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিআরটিএ-র রেজিস্ট্রেশন শাখায় যোগদানের পর থেকেই পরিদর্শক রায়হান আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক জমির হদিশ মিলছে। সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন প্রমাণ করে যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
​জনরোষ ও দুদক হস্তক্ষেপের জোরালো দাবি
​নিজ এলাকায় রাজনৈতিক দোসরদের মদদে চলা এই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
​সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পরিদর্শক রায়হান এবং তার সহযোগী তৌফিকের অবৈধ আয়ের উৎস, ব্যাংক হিসাব এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে দুদকের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
“বিআরটিএ-র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতকে জিম্মি করে যারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ কামিয়েছেন, তাদের ছাড় দেওয়া যায় না। পরিদর্শক রায়হান ও তার দোসর তৌফিকের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে দুদককে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন আইনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বলে জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক দোসরদের শেকড় উৎপাটন না করলে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন শাখার পরিদর্শক রায়হানের ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

আগামী পর্বে চোখ রাখুন রায়হানের দুর্নীতির আরও বিস্তারিত…