অনিয়ম ও দুর্নীতির চাদরে মোড়ানো বিআরটিএ-র উপপরিচালক তৌহিদুল;গড়েছেন ঘুষের টাকায় শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য।
অনিয়ম ও দুর্নীতির চাদরে মোড়ানো বিআরটিএ-র উপপরিচালক তৌহিদুল;গড়েছেন ঘুষের টাকায় শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য।
বিশেষ প্রতিবেদক: অনিয়ম ও দুর্নীতির চাদরে মোড়ানো বিআরটিএ-র উপপরিচালক তৌহিদুল;গড়ে তুলেছেন ঘুষের টাকায় শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম হালিশহর কার্যালয় যেন অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ,মালিকানা পরিবর্তন কিংবা অবৈধ অনুমোদনহীন যানবাহনের নিবন্ধন যা—টাকা ছাড়া নড়ে না কোনো ফাইল। আর এই পুরো অনিয়মের কেন্দ্রে রয়েছেন হালিশহর বিআরটিএ উপপরিচালক (প্রকৌশল) তৌহিদুল হোসেন ও তাঁর অনুসারী একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
তথ্যমতে, ২০১৬ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৌহিদুল হোসেন। পরবর্তীতে তিনি হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ সময় একই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকার সুবাদে যানবাহন প্রতিস্থাপন, স্ক্র্যাপিং, নতুন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, আমদানি-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে নিজের একক প্রভাব বলয় তৈরি করেন তিনি।
ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে শতকোটি টাকার বাণিজ্য : প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পুরাতন ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে চলেছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ঘুষ লেনদেন। স্ক্র্যাপিং বাণিজ্য: পুরাতন গাড়ি স্ক্র্যাপিং বা ধ্বংসের জন্য গাড়িপ্রতি প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিবন্ধন ফি: পরবর্তীতে নতুন গাড়ি নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার নামে প্রতিটি ফাইল থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ছয় বছরে হাজার হাজার অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট। ২০১৮–২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিস্থাপিত প্রতিটি গাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা, স্ক্র্যাপিং রেকর্ড, ধ্বংসকরণের ভৌত প্রমাণ, নতুন নিবন্ধনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন ফাইল নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করলেই এই অনিয়মের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে দাবি সচেতন মহলের।
বদলি নাটক ও অদৃশ্য শক্তির ছায়া :
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক নানা বিতর্কের মুখে প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে একপর্যায়ে হালিশহর বিআরটিএ থেকে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়। তবে অদৃশ্য প্রভাব ও অনৈতিক হাতবদলের মাধ্যমে তিনি পুনরায় হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে বহাল তবিয়তে যোগদান করেন।
ফাইল আটকে অর্থ আদায় ও দালাল নির্ভরতা :
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরাসরি বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে কোনো কাজের সুরাহা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোনো গ্রাহক নিয়ম মেনে ফাইল জমা দিলেও নানা অজুহাতে তা দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। তবে নির্দিষ্ট দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে টাকা দিলেই দ্রুত মেলে সব ধরণের অনুমোদন।
অফিস চত্বরে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত দালালদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিআরটিএ হালিশহরের এই সিন্ডিকেট পুরো সেবা খাতকে জিম্মি করে ফেলেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কোনো সিদ্ধান্ত বা অনুমোদনের পেছনে আইন বা নীতিমালার চেয়ে টাকার লেনদেনই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উপপরিচালক তৌহিদুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চক্রটির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলো এখন সর্বজনবিদিত।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার তৌহিদুল হোসেনকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরিবহন মালিক, সাধারণ সেবাপ্রার্থী ও সুশীল সমাজের একটাই দাবি— ২০১৮–২০২৪ সালের ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের সমস্ত নথিপত্র আইনানুগভাবে বাজেয়াপ্ত করে অডিট করতে হবে।
সরকারি রেকর্ড, ডিজিটাল সার্ভিস ডেটা ও আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। তৌহিদুল হোসেনসহ এই দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিআরটিএর অদৃশ্য দুর্নীতির রাজত্ব উন্মোচনে এখন সবার নজর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে।
প্রিয় পাঠক: আগামী পর্বে চোখ রাখুন উপপরিচালক তৌহিদুল ইসলাম এর অবৈধ সম্পদ এর আনদ্যোপান্ত!!