পাওনাদারদের কোটি টাকা লোপাট করে হোটেলে নারী নিয়ে ফুর্তিতে ব্যস্ত সেই প্রতারক শাহেদ
চট্টগ্রামের মেধাবী প্রতারক খ্যাত নুর মোহাম্মদ শাহেদ আবারো আলোচনায়। পাওনাদারদের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে এবার পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নয়-ছয় করে হোটেলে ফূর্তি করছেন মেয়ে নিয়ে। এ ধরনের কিছু ছবি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার বিস্ময়কর যুবক নুর মোহাম্মদ শাহেদ। প্রতারণাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। একের পর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। কেউ অভিযোগ দিলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। পরে আবার বের হয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করে প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ বলছে, প্রতারণা করতে গিয়ে মেধার পরিচয় দিচ্ছেন শাহেদ। যে কারণে তার পাতানো ফাঁদে সহজেই পা দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, পুলিশের মামলা ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জমা থাকে সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) নামে একটি ওয়েবসাইটে। যেখানে কারও নাম-ঠিকানা দিয়ে সার্চ দিলে একজনের নামে কয়টি মামলা রয়েছে এবং আগে কখনও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এই সিডিএমএসে শাহেদের নাম-ঠিকানা দিয়ে সার্চ দিলে তার নামে চারটি মামলা পাওয়া যায়। সবগুলো মামলায় প্রতারণা সংক্রান্ত। এসব মামলায় চারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
সবশেষ ২০২৫ সালের ৫ জুন প্রতারণার একটি মামলায় নগরের হালিশহর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন শাহেদ। এর আগে তাকে তার দুরন্ত বাজার সুপার শপে অবরুদ্ধ করে রাখে পাওনাদাররা। ৪ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে হালিশহর থানার জি-ব্লক এলাকায় দুরন্ত বাজার নামে নিজের মালিকানাধীন সুপারশপে শাহেদকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকার পাওনাদাররা ছুটে আসেন। পাশাপাশি হালিশহর থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে। তবে কেউ তার এ বিষয়ে সমাধান দিতে পারেনি। এসময় টাকা দিতে না পারায় শাহেদকে বেদম পিটুনি দেয় পাওনাদারেরা এবং তার জামা-কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন অবস্থায় তাকে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে দুরন্ত সুপার শপ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে একটি ওরশ বিরিয়ানির দোকান চালু করেন। এছাড়া তিনি ফেনী লাইন নামে একটি বাস সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও কাউন্টার দেওয়ার কথা বলে নানা লোকজনের কাছ থেকে নতুন করে টাকা নিয়েছেন তিনি। বিনিয়োগকারীকে বিশ্বাস করাতে পুরাতন তিনটি বাস রঙ করে ফেনী লাইন নাম দিয়ে স্টিকার দিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেন তিনি। পাশাপাশি কয়েকটি কাউন্টারে ফেনী লাইনের সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়। গত বছরের ২ জুন এ বাস সার্ভিস উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু এসময়ে তিনি চালু করেননি।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া সচরাচর প্রতারণার অভিযোগের মামলা থানায় রেকর্ড হয় না। এ ধরনের অভিযোগে আদালতেই বেশিরভাগ মামলা হয়ে থাকে। আর আদালতে মামলা হলে সেগুলো পুলিশের ওয়েবসাইটে রেকর্ড থাকে না। শুধু থানায় মামলা হলে পুলিশের ওয়েবসাইটে রেকর্ড থাকে। শাহেদের নামে শুধু থানার মামলা পাওয়া গেছে চারটি। এর বাইরে আদালতে দায়ের হওয়া মামলাও থাকতে পারে।
তারা আরও বলছেন, থানায় কারও নামে চারটি মামলা থাকা মানে তিনি বড় ধরনের প্রতারক। তা ছাড়া ওয়েবসাইটে শাহেদের প্রোফাইলে প্রতারক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।