চট্টগ্রাম বিআরটিএ পরিচালক মাসুদ আলম গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও ঘুষের রাজত্ব! তাকে থামাবে কে?
চট্টগ্রাম বিআরটিএ পরিচালক মাসুদ আলম গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও ঘুষের রাজত্ব! তাকে থামাবে কে?
নিজস্ব প্রতিবেদক‘ চট্টগ্রাম বিআরটিএ পরিচালক মাসুদ আলম গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও ঘুষের রাজত্ব! তাকে থামানোর যেন কেউ নেই এ দেশে।মাসুদের সঙ্গে দেখা হলেই প্রায়ই আমি বলি, মাসুদ তুমি ভালো হয়ে যাও, কিন্তু সে এখনও পুরোপুরি ভালো হয়নি।’—প্যাসিস্ট সরকারের সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মুখে উচ্চারিত এই ঐতিহাসিক বাক্যটি বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে রাতারাতি দেশজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিল। কিন্তু সাবেক মন্ত্রীর সেই প্রকাশ্য সতর্কবার্তাও মাসুদের ঘুষের গতি রোধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর থেকে শুরু করে খুলনা হয়ে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ,অনিয়ম এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগের ডালপালা মেলেছে। অবৈধ সম্পদ এর পাহাড় গড়লেও কিন্তু তাঁকে থামানোর যেন কেউ নেই! শত শত কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ এর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন আমি এখন হজ্ব করে আসছি মিথ্যা বলবো না মাসুদ স্যার শত শত শত কোটি টাকার মালিক, সেই হিসেবে আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি।
মাসুদের বিতর্কিত কর্মজীবন ও বদলির নেপথ্য
২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেবাগ্রহীতাদের রোষানলে পড়েন। লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত সেই কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভালো হয়ে যাও, মাসুদ। তোমাকে আমি অনেক সময় দিয়েছি। তুমি কি এখানে আবার পুরোনো খেলা শুরু করেছ?’
জনসমক্ষে এমন তিরস্কারের পরও এই কর্মকর্তার পদোন্নতি বা রূদ্ধদ্বার বদলি প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি। মিরপুর থেকে বিআরটিএ সদর দফতর, এরপর ২০২২ সালের জুনে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয় তাঁকে। সেই থেকে মাসুদ আলম পুরো চট্টগ্রাম বিআরটিএ বিভাগীয় অফিসগুলোতে ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করে। হয়তোবা এরই মধ্যে অবৈধ সম্পদ এর পাহাড় গড়তে চট্টগ্রাম থেকেও পাড়ি দিবেন অন্য গন্তব্যে।
কিন্তু সচেতন মহলের প্রশ্ন বিএনপি সরকারের দূর্নীতি বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাসুদ আলম এর মতো কর্মকর্তা মহাল তবিয়তে থাকে। তার বিরুদ্ধে বারবার বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও কেন তার মতো কর্মর্কতাকে পদে বহাল রাখা হয়? এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলিই কি তবে অনিয়মের শাস্তি?
মাসুদ এর অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও সিন্ডিকেট রাজত্ব:
অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ’র মতো লাভজনক ও সংবেদনশীল সেবা খাতে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সুবাদে মাসুদ আলম গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ঘুষ বানিজ্য সিন্ডিকেট। এই ঘুষ বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন তার অফিসের একাধিক দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ভেহিকল ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন, রুট পারমিট এবং বাণিজ্যিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ই এই সিন্ডিকেট প্রকাশ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে পত্রিকায় বেশি লেখালেখি হলে তড়িঘড়ি করে ভ্রাম্মমান আদালত বসিয়ে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেন এই কর্মকর্তা। মাসুদ আলম চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ বানিজ্য দালাল সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেবা গ্রহীতারা।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ নতুন পাড়াা কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম :দলাল চক্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সাধারণ সেবাগ্রহীতারা যেখানে সেবা পেতে মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হন, সেখানে ঘুষের বিনিময়ে রাতারাতি ফাইল ছাড়া পাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই অফিসের বিরদ্ধে ।
ঘুষ বানিজ্য করে এসব অবৈধ আয়ের মাধ্যমেই বিআরটিএ বিভাগীয় পরিচালক মাসুদ আলম ও তাঁর ঘনিষ্ট আত্মীদের নামে ও বেবেনামে দেশজুড়ে সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে বিভিন্ন সময়ে তার অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তা বলেন মাসুদ স্যার আত্মীয়স্বজনদের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মূল্যবান ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তিতে তাঁর বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে কিন্তু আমরা প্রকাশ্য কিছু বলতে পারবো না।
সচেতন মহলের দাবি, দেশেররাষ্ট্রীয় সেবাখাতগুলোকে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতিমুক্ত করার জোরালো অঙ্গিকার করেছেন। তখন চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাসুদের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করছে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে।
দুদক বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন তার মতো ক্ষমতাধর কর্মকর্তারা।
সাধারণ সেবাগ্রহীতারা আজও চট্টগ্রাম বিআরটিএতে পা রাখলেই দলাল ও দুর্নীতিবাজ চক্রের খপ্পরে পড়েন। দালাল সিন্ডিকেট ছাড়া ফাইল নিয়ে গেলে ঘুরতে হয় এই টেবিল থেকে ঐ টেবিলে। ‘মাসুদ তুমি ভালো হয়ে যাও’ প্রবাদটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মশকরার খোরাক হয়ে থাকলেও, বাস্তবে দুর্নীতির মূল উৎপাটনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি মাসুদ আলমের চট্টগ্রাম বিআরটি এই অফিসগুলোতে । সচেতন জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি—বিআরটিএ’র এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাসুদ এর অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক এবং আইনের কঠোর শাসন নিশ্চিত করা হোক।
প্রিয় পাঠক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ২য় পর্বে চোখ রাখুন মাসুদ আলম এর অবৈধ সম্পদ এর আদ্যোপান্তর খবরে।